হার্ট অ্যাটাক হলে করণীয় - লক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো কী?
হার্ট অ্যাটাক হলে রোগীর জীবন বাঁচাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে অনেক সময় সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা কঠিন হয়, কারণ সবাই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন নন। লক্ষণগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে সঠিক সময়ে সাহায্য করা সম্ভব হয়, যা একজনের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ হলো:
- বুকে ব্যথা বা চাপবোধ, যা চোয়াল, কাঁধ কিংবা হাতে ছড়িয়ে পড়ে।
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
- প্রচুর ঘাম হওয়া।
- মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে পড়া।
- বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
চ্যানেল ২৪ এর "সুরক্ষায় প্রতিদিন" অনুষ্ঠানে প্রফেসর ডাক্তার মইনুদ্দিন আহমদ, সিনিয়র কনসাল্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজি, ইউনিকো হসপিটালস বলেন, “হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র বুকে ব্যথা, যা অনেক সময় গলা, পেট বা দুই হাতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচুর ঘাম হওয়া, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, মাথা ঘোরা বা দুর্বল বোধ করা, এবং শ্বাসকষ্ট।”
উপরে উল্লেখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবহেলা করবেন না। বিশেষ করে বুকে ব্যথা, শ্বাসের কষ্ট বা ঘাম হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। নিজের এবং প্রিয়জনের সুস্থতার জন্য এই লক্ষণগুলো ভালো করে মনে রাখুন।
তবে ডাক্তারের কাছে নেয়ার আগে কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রুগীকে রক্ষা করতে পারে। চলুন জেনে নেই হার্ট অ্যাটাকের কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে জীবন-মৃত্যুর মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক চিকিৎসা
হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে এটি প্রবাদ প্রচলিত আছে - “এভ্রি সেকেন্ডস কাউন্ট।” তাই হার্ট অ্যাটাক হলে সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রথমিক চিকিৎসার সহজ ধাপগুলো জানা থাকলে বিপদের মুহূর্তে দ্রুত সাহায্য করা সম্ভব।
কী করবেন?
যখন বুঝবেন কেউ হার্ট অ্যাটাক করছে, দেরি না করে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করুন। নিচে প্রাথমিক চিকিৎসার ধাপগুলো বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো।
১. শান্ত থাকুন এবং রোগীকে আরাম দিন
প্রথমেই নিজেকে শান্ত রাখুন। আপনার আতঙ্ক রোগীর অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে। রোগীকে একটি আরামদায়ক জায়গায় বসান বা শুইয়ে দিন। মাথার নিচে নরম কিছু দিয়ে তাকে স্বস্তিদায়কভাবে অবস্থান করান। যদি রোগী হাঁপায় বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে তার কাঁধ ও ঘাড় সামান্য উঁচু করে দিন। ভুল করেও তাকে কোনো ধরনের ভারী কাজ করতে বলবেন না এবং তাড়াহুড়ো করবেন না। ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলান।
২. অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন
সম্ভব হলে তৎক্ষণাৎ ৯৯৯ এ ফোন করুন। অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগেই কাছাকাছি পেশাদার চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন। যদি অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হয়, এবং পাশে কেউ পরিচিত থাকেন, তাহলে দ্রুত ও নিরাপদভাবে ব্যক্তিগত যানবাহনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। রোগীর অবস্থা যদি দ্রুত খারাপ হতে থাকে, তাহলে এক মুহূর্ত দেরি না করে চিকিৎসকদের কাছ থেকে জরুরি সহায়তা নেওয়াই জীবন রক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
৩. অ্যাসপিরিন দিন
যদি রোগীর অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি না থাকে, তাহলে তাকে একটি অ্যাসপিরিন বড়ি খেতে দিন। চিবিয়ে খাওয়ানো অধিক কার্যকর, কারণ এটি দ্রুত রক্তে মিশে কাজ শুরু করে। অ্যাসপিরিন রক্ত জমাট বাঁধা কমাতে সহায়তা করে, যা হার্টে রক্ত প্রবাহ কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে পারে। তবে, রোগী যদি আগে থেকে কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণের নির্দেশনা পান, তাহলে অ্যাসপিরিন দেওয়ার আগে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
৪. শ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে CPR করুন
রোগীর শ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে বা সে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে, এক মুহূর্তও দেরি না করে CPR দেয়া শুরু করুন। কিভাবে CPR দিবেন জানতে হলে,
দুই হাত দিয়ে বুকের মাঝখানে টানা চাপ দিন — প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার চাপ দেওয়ার মতো একটি নিয়মিত ছন্দ বজায় রাখুন। যদি আপনার CPR পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকে, তবে তা অনুসরণ করুন। এটি রোগীর মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ চালু রাখতে সাহায্য করে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পাওয়া অবস্থায়ও তার রোগীর প্রাণ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পালন করে।
৫. অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করুন
আপনার কাছে যদি অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকে, তবে দ্রুত রোগীর কাছে পৌঁছান, এবং অক্সিজেন দিন। এতে রোগীর শ্বাস নেওয়া কিছুটা সহজ হবে। এটি তার হার্টের ওপর চাপ কমায়, শরীরের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে, সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্ক থাকুন এবং রোগীর অবস্থা মনিটর করুন।
এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে হার্ট অ্যাটাকের সময় রোগীকে জরুরি চিকিৎসার আগ পর্যন্ত সামলানো সম্ভব মনে রাখবেন, আপনার দ্রুত ও সচেতন পদক্ষেপই একজনের জীবন বাঁচাতে গুরুত্তপুর্ন ভূমিকা পালন করবে ।
By 